• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

পোড়া হাতে লিখেই জিপিএ-ফাইভ

বিশেষ প্রতিনিধি ।। সুপন রায়। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। তার ওপর আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্মের এক বছর পরেই আগুনে পুড়ে যায় দুই হাত। বাঁ হাতের কয়েকটি আঙ্গুল সচল থাকলেও তা দিয়ে ঠিকঠাক হাত কলমও ধরা যায় না। তারপরও হাতের জড়ানো আঙ্গুলের ফাঁকে কোন রকমে কলম রেখে লিখে লিখে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ – ৫ পেয়েছে সে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে শাখার ছাত্র। তাঁর স্বপ্ন একজন বড় প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু আদৌ কি সেই স্বপ্ন পূরণ হবে তার ! কারণ তাঁর হতদরিদ্র বাবা-মায়ের পক্ষে এখন তাঁর কলেজের খরচ মেটানো একেবারে অসম্ভব। তাই তাঁর কলেজের ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিতায় পড়েছেন মেধাবী সুপন ও তাঁর পরিবার।
সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বাড়াইশাল নয়াপাড়ার বাসিন্দা দিনমজুর কৃষ্ণ রায় এবং গৃহিনী কল্পনা রাণী রায় দম্পতি। ওই দম্পতির বসতভিটাও নেই। তাই সরকারি খাস জায়গার বাস করেন।
সুপন রায়ের মা কল্পনা রাণী রায় বলেন, তাঁর তিন ছেলে। সকলেই লেখাপড়ায় আগ্রহী। মেধাবীও। বড় ছেলে সুজন রায় সিভিলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছে। চাকুরির মেলানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভর্তি হয়েছেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও। আর মেঝো ছেলে সুমন রায় পড়ে সৈয়দপুর সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে।
তিনি জানান, ছোট ছেলে সুপন তখন এক বছর বয়সী শিশু। যখন আগুন পানি কি তা বুঝে উঠেনি। তাদের বাড়ির বাইরে প্রতিবেশির রাখা আগুনে দুই হাত পুড়ে যায় সুপনের। এতে তাঁর ডান হতের সবগুলোই আঙ্গুলই পুড়ে যায়। আর বাঁ হাতের কয়েকটি আঙ্গুল একেবারে জড়িয়ে গেছে। সে সব দিয়ে ঠিকভাবে কলম ধরতে পারে না সুপন। ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ার প্রতি ভীষণ আগ্রহী সে। বাড়ির পাশের চৌমুহনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পাশ করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয় লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজে। সেখান থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তাঁর পরিবার খুশি হলে তাঁর কলেজের ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিতায় পড়েছেন পরিবারটি। কারণ সুপনের বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। নিত্যদিন দিনমজুরী করে যে আয় হয় তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের দুই বেলা খাবার জোটে না প্রতিদিন। তারওপর তিন ছেলে লেখাপড়ার ও পরিবারের খরচ চালাতে প্রতিদিন হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছে। বয়সও বেড়েছে। আগেও মতো আর খাটতেও পারেন না। কিন্তু এখন ছোট ছেলে সুপন রায় কলেজে ভর্তি করতে হবে। কিনতে হবে কলেজের অনেক দামি বইপত্রও। তাই কলেজের খরচ মেটানো নিয়ে চরম দুশ্চিতায় পড়েছে তার পরিবার।
সৈয়দপুর লক্ষণপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, সুপন রায় শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবে সে অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী। তাঁর লেখাপড়ায় আমরা প্রতিষ্ঠানগতভাবে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন কলেজের লেখাপড়ায় তাঁর আরো বেশি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন পড়বে। আশা করি তাঁর লেখাপড়ায় সমাজের বিত্তশালীরা আর্থিক সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসবেন। স্বপ্ন পূরণ হবে তাঁর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ